International Journal of Contemporary Research In Multidisciplinary, 2026;5(2):443-446
অরণ্যচারী কপালকুণ্ডলা! একটি সমীক্ষাত্মক অধ্যয়ন
Author Name: Basudeb Halder;
Paper Type: research paper
Article Information
Abstract:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্ট্যোপাধ্যায়ের তথা বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয় সার্থক উপন্যাস ‘কপালকুণ্ডলা’। ইতিহাস আশ্রিত রোসান্সধর্মী এই উপন্যাসের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কপালকুণ্ডলা চরিত্র। তাকে ঘিরেই এই উপন্যাসের ঘটনা আবর্তিত হয়েছে। কাপালিক দ্বারা প্রতিপালিত অরণ্যচারী কপালকুণ্ডলা ছোট থেকেই জঙ্গলে বেড়ে উঠেছে। অরণ্য প্রকৃতির কন্যা হিসাবেই তাকে গণ্য করা হয়েছে। তার জীবনের গতি পরিবর্তিত হয়েছে নবকুমারের সংস্পর্শে এসে। কাপালিকের হাত থেকে নবকুমারকে সে রক্ষা করেছে। এরপর নবকুমারের হাত ধরে নবকুমারের স্ত্রী হয়ে জঙ্গল জীবন সমাপ্ত করে স্বাভাবিক জীবনে প্রবেশ করেছে। কিন্তু এই স্বাভাবিক জীবনে এসে কপালকুণ্ডলা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেনি, তা বলাই বাহুল্য। সামাজিক নিয়মের মধ্যে তার চলাফেরা কেমন যেন অস্বাভাবিক মনে হয়। অরণ্যের প্রাকৃতিক নৈসর্গিক টান সে বারবার অনুভব করে। নবকুমারের ভালোবাসাও তাকে বেঁধে রাখতে পারেনি। সামাজিক জীবনের রকমফের, ঘোরপ্যাচ সে বোঝে না। সরলতা তার চরিত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। বিবাহিত জীবনে এসেও অরণ্য প্রকৃতিকে সে এক মুহূর্তের জন্যও ভুলতে পারেনি। সপ্তগ্রামের জঙ্গলে সে অবাধে ঘুরে বেড়িয়েছে। তার ননদ শ্যামাসুন্দরীর জন্য রাতের অন্ধকারে একা ঔষধি গাছ সংগ্রহ করতে গেছে। এরফলে নবকুমারের মনে কপালকুণ্ডলার চরিত্র নিয়ে সন্দেহ দানা বেঁধেছে। শেষ পর্যন্ত নবকুমারকে তার প্রথমা স্ত্রী মতি বিবি তথা পদ্মাবতীর হাতে তুলে দিয়ে নিজে আবার অরণ্যে ফিরে যেতে চেয়েছে। এর বিনিময়ে মতিবিবি প্রচুর ধনসম্পত্তি দিতে চাইলেও কপালকুণ্ডলা তা গ্রহণ করেনি। যদিও শেষ পর্যন্ত গঙ্গার প্রবল স্রোতে সে বিলীন হয়ে গেছে। অরণ্য থেকে স্বাভাবিক জীবনে এসে কিছুদিন সংসারের মধ্যে থেকে আবার সেই অরণ্যের মাঝে নদীর গর্ভে তার বিলান হওয়া, যা থেকে প্রতিপন্ন হয়, সে প্রকৃত অর্থেই অরণ্যচারী।
Keywords:
বঙ্কিমচন্দ্র, কপালকুণ্ডলা, নবকুমার, কাপালিক, অরণ্যচারী।
How to Cite this Article:
Basudeb Halder. অরণ্যচারী কপালকুণ্ডলা! একটি সমীক্ষাত্মক অধ্যয়ন. International Journal of Contemporary Research in Multidisciplinary. 2026: 5(2):443-446
Download PDF